চিঠি দেখেই ঘূম হারাম এলাকাবাসীর….

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বাড্ডার বাসিন্দা ওয়াহিদ হোসেন বললেন, তিনি কিছু জমি বিক্রি করে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে চান। কিন্তু সেই জমি নিজের নামে নামজারি করতে না পারায় তিনি জমি বিক্রি করতে পারছেন না। আর তাঁর স্ত্রী বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে বসেছেন। একই এলাকার বিধবা সালেহা খাতুন বললেন, তিনি তাঁর কিছু জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। কিন্তু নামজারি সমস্যার কারণে তা করতে পারছেন না। অথচ কিছুদিন আগেও এলাকার জমির খাজনা দেওয়া এবং নামজারি করা যেত সহজেই।

ওয়াহিদ ও সালেহা খাতুনের মতো ঢাকার ১৫ লাখ মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি। সে চিঠির কারণে তাঁরা জমির খাজনা দিতে পারছেন না। সিএস থেকে মহানগর ভূমি রেকর্ড, দখল, দলিল-পর্চা সব কিছু থাকার পরও নামজারি করতে গেলেই আপত্তি তোলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই চিঠির কারণে রাজউক থেকে বাড়ির নকশা পাস করানো যাচ্ছে না, যে কারণে নতুন বাড়ি বানাতে না পেরে পুরনো বাড়িঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে। একই কারণে জমিজমা বেচাকেনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এমনই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে দিনাতিপাত করছে ঢাকার জোয়ার সাহারা, শাহাজাদপুর, খিলক্ষেত, নূরের চালা, কুড়িল, ভাটারা, নয়ানগর, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর, নদ্দা, কুড়াতলী ও বাড্ডা এলাকাবাসী।

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট এসি ল্যান্ড এবং তহশিল অফিসকে এসব এলাকার জমিজমার খাজনা এবং নামজারি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০০ সালের ১২ মার্চ ১১৭ স্মারকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রে এসব এলাকার জমির খাজনা এবং নামজারির বিষয়ে আপত্তি করা হয়েছে; যার জন্য উক্ত এলাকার অধিগ্রহণকৃত জমির অবমুক্ত গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত খাজনা কিংবা নামজারি কার্যক্রম করা যাবে না।

 

এই চিঠিই সংশ্লিষ্ট এলাকার ১৫ লাখ মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, একাধিক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মীমাংসিত একটি বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বেআইনি হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা ১৭ মার্চ এক যৌথ প্রতিবেদনে অধিগ্রহণকৃত উল্লিখিত জমিজমা অবমুক্ত করার মতো নয় বলে অভিমত দিয়েছেন। আলোচ্য ভূমি রাজউক কর্তৃক চূড়ান্তভাবে অধিগ্রহণ করে সেখানে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে তাঁরা উল্লেখ করেন।

 

এলাকা ঘুরে জানা যায়, ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিগ্রহণকৃত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজউক ও জেলা প্রশাসকের এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ লাখ মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। স্থানীয় লোকজন সর্বস্ব দিয়ে কেনা এবং বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষার জন্য সংগঠিত হচ্ছে। নয়ানগরের ইকবাল হোসেন বলেন, ‘একবার অধিগ্রহণকৃত জমি অবমুক্ত করার পর সে জমি পুনরায় অধিগ্রহণের কথা বলে তারা সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলছে। তা ছাড়া রামপুরা ব্রিজ থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত এলাকা অধিগ্রহণ করতে যে চার লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে, সেটা কি কারো জানা আছে?’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৬১-৬২ সালে দুটি এলএ কেস (ভূমি অধিগ্রহণ মামলা) থেকেই এসব এলাকাবাসীর দুর্দশা শুরু। প্রয়োজন না হওয়ায় এলএ কেসের আওতাভুক্ত জমি সরকার অবমুক্ত করে দেয়। পরে জমি অবমুক্ত করে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা লাঘব করার জন্য রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং সাহাবুদ্দীন আহমদ লিখিত নির্দেশও দেন। এর পরও নানা অজুহাতে কিছু সরকারি আমলা এবং ডিসি অফিসের কর্মকর্তা এলাকাবাসীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। দুটি প্রেসিডেন্ট অর্ডারের পরও কিভাবে সে জমি অধিগ্রহণভুক্ত থাকে সেটাই এলাকাবাসী বুঝতে পারছে না।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালের দিকে সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে অধিগ্রহণকৃত এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে এর প্রতিবাদ করে। তখন এ আন্দোলন বন্ধ করার জন্য সরকার রাস্তায় পুলিশ নামায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা পুলিশের বাধা অমান্য করে বিক্ষোভ করে। পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়াসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এ অবস্থায় ঘটনা সামাল দিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে মৌখিকভাবে সমস্ত জমি অবমুক্ত বলে ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এক আদেশে সেটা কার্যকর করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা ডিসি অফিসকে নির্দেশ দেন।

 

জোয়ার সাহারার আদি বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ‘১৩৮/৬১-৬২ নম্বর এলএ কেসে অধিগ্রহণকৃত জমি সরকার ১৯৬৫ সালের দিকেই অবমুক্ত করে দেয়। এ কারণে ওই জমি অধিগ্রহণের কোনো গেজেট ছাপা হয়নি। যার গেজেট হয়নি তাকে পুরোপুরিভাবে অধিগ্রহণ বলা যাবে না। আর যার গেজেট হয়নি তার অবমুক্তির জন্যও কোনো গেজেট প্রয়োজন হয় না। সরকার তালিকা করে সংবাদপত্রের মাধ্যমে যেভাবে অবমুক্ত করেছিল, সেটাই সঠিক। ২০০০ সালের ১১৭ নম্বর স্মারকের পরিপত্রটি বাতিল করে দিলেই দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি থেকে আমরা বেঁচে যাই। ’

 

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৩৮ নম্বর এলএ কেসের প্রত্যাশী সংস্থা তৎকালীন ডিআইটি থেকে কখনো দাবি করা হয়নি যে অধিগ্রহণকৃত ১৩৮৫ একর জমি তাদের। বরং পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা ডিসি অফিস থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ১৩৮৫ একর জমির মধ্যে ১২২৩ একর জমি অবমুক্ত করা হয়। মূলত জমির মালিকদের জানানোর জন্যই সেটা করা হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য তৎকালীন পূর্তমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি স্পষ্ট করে বলে, যেহেতু অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির কোনো গেজেট হয়নি সেহেতু তা গেজেট করে অবমুক্ত করার প্রয়োজন নেই। হুকুম দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও দখল গ্রহণের পর গেজেটভুক্ত সম্পত্তিই কেবল গেজেট করে অবমুক্ত করতে হয়। তা ছাড়া সরকারের নির্দেশে ভূমি মালিকরা তাদের নেওয়া ক্ষতিপূরণের টাকাও ডিসি অফিসের এলএ শাখায় ফেরত দিয়েছেন। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়। এখন যেটা করা হচ্ছে সেটা মূলত জনগণের হয়রানির জন্য করা হচ্ছে।

 

তা ছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি রাজউক থেকে ১০ তলা, ১২ তলা এমনকি ১৫ তলা ভবনের নকশা পাস করার পর সেখানে নানা রকম স্থাপনা ও আবাসিকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবনও উঠেছে। অনেকে বাড়ি বানিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন। এসব স্থাপনা ঘিরে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে এসব বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনার খাজনা এবং নামজারি বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো ঋণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে এলাকার ১৫ লাখ মানুষের কাছে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর এসব হয়েছে কিছু কর্মকর্তার অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডের কারণে।

 

দেওয়ানি মামলায় ৫০ বছরের অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ইউনুস আলী আখন্দ বলেন, ‘অধিগ্রহণকৃত জমির টাকা ফেরত নেওয়ার পর সে জমি অধিগ্রহণের তালিকায় থাকা বেআইনি। এ ধরনের অবিচার চলতে পারে না। প্রত্যাশিত সংস্থা রাজউক এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড লিখিতভাবে বলেছে, এসব সম্পত্তি তাদের নয়। অথচ ঢাকা জেলা প্রশাসন কার স্বার্থ হাসিল করার জন্য খাজনা নেওয়া এবং নামজারি বন্ধ রেখেছে তা কারো বোধগম্য নয়। ’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে তাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। ’

 

ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি সরকারের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৯৬৫ সালে তা অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশের মাধ্যমে ওই বছরের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে উত্তোলিত ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তৎকালীন বিশেষ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক ভূমি মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেন। ১৯৯২ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসনও একইভাবে নোটিশ করে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত নেয়।
রাজউকের নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত এবং প্রতিষ্ঠানের নিষ্কণ্টক মালিকানা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে রাজউক তাদের প্রয়োজনীয় জমির তালিকা প্রকাশ করে ১৩৮ নম্বর এলএ কেসের সব সম্পত্তি ছেড়ে দেয়। সেই তালিকায় স্বাক্ষর করেন রাজউকের চেয়ারম্যান, মেম্বার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ল্যান্ড), পরিচালক (ভূমি), উপপরিচালকসহ (ভূমি) আরো অনেক কর্মকর্তা। মূলত রাজউক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির স্বত্ব আলাদা করার জন্য চূড়ান্তভাবে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান। দীর্ঘ ৬০ বছরেও ঢাকা জেলা প্রশাসন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে।

 

বাড্ডা, জোয়ার সাহারা ও ভাটারা এলাকার ভূমি মালিকরা জানান, জমি অধিগ্রহণ হলেও সে জমির সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের কোথাও সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। এ কারণে ভূমি মালিকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে নামজারি করে খাজনা দিয়ে আসছেন। তা ছাড়া ভূমি মালিকরা নিজ নিজ জমিতে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬০ বছরে এসব জমি অনেকবার বিক্রি এবং মালিকের মৃত্যুজনিত কারণে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কোনো দিন সরকারের কোনো সংস্থা বা রাজউক সেসব জমি নিজেদের বলে দাবি করেনি। অবশেষে জমির স্বত্ব দখল মোতাবেক মহানগর জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, যা গেজেট দিয়ে চূড়ান্তও করা হয়েছে।

এই অবস্থায় অনেকটা হঠাৎ করেই ঢাকা জেলা প্রশাসন চিঠি দিয়ে নামজারি এবং খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন সময়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধিগ্রহণকৃত জমি অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভূমি অবমুক্ত করার কোনো প্রক্রিয়া বিদ্যমান নেই, যার কারণে ক্যান্টনমেন্ট এবং তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেলে এসব জমির নাজমারি এবং খাজনা নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ’

 

 

একাধিক আইনজ্ঞ বলেন, বিদ্যমান চারটি জরিপ অনুযায়ী এসব জমির দখলদার ও মালিক সাধারণ মানুষ। সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের ধারাবাহিকতায় তারা নামজারি এবং খাজনা প্রদান করেছে। তাই ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা কিংবা এসি ল্যান্ড কোনো চিঠি দিয়ে নামজারি এবং খাজনা নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এসি ল্যান্ড কালের কণ্ঠকে বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একটি রেকর্ড গেজেটভুক্ত হয়ে গেলে রেকর্ডীয় মালিককেই বৈধ ধরে নিতে হবে। এর ফলে আগের রেকর্ড বাতিল হয়ে যায়। তা ছাড়া মূল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা বেআইনি।

 

হয়রানির শিকার একাধিক ভূমি মালিক বলেন, ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদ এবং ১৯৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাড্ডার জনসভায় অধিগ্রহণ তুলে নিয়ে একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন থেকে বাড্ডা এলাকায় অধিগ্রহণ কিংবা উচ্ছেদের কোনো আতঙ্ক থাকবে না। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থাকার সময় লিখিতভাবে সেসব জমি অবমুক্তের নির্দেশ দেন। একাধিক মন্ত্রী-এমপি বলেন, যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল তারাই সে জমির মালিক। অন্যায়ভাবে যারা এলাকাবাসীকে উচ্ছেদ করতে আসবে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কিন্তু সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারের মাঠপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা একটি মৃত বিষয় নিয়ে টানাহেঁচড়া করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী মাসের ৩ তারিখ এ বিষয় নিয়ে আন্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সভা হবে। সেখানে সমস্যাটি সমাধান করা হবে। এ কথা সত্যি, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ১৩৮ এলএ কেস এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আওতাধীন থাকায় অনেকেই খাজনা দিতে পারছে না এবং নামজারিও করতে পারছে না। সেটা ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের কারণে হচ্ছে। অথচ রেকর্ডপত্র এলাকাবাসীর নামে রয়েছে। সেখানে বাড়িঘর তুলে তারা বসবাসও করছে। বিষয়টি জনস্বার্থমূলকভাবেই দেখা হবে। ’

 

রাজউকের চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘১৩৮ নম্বর এলএ কেসের সম্পত্তি নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরাও চাই এলাকার লোকজন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আগামী ৩ মে ভূমি মন্ত্রণালয়ে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বিষয়টি সবার মতামতের ভিত্তিতে সমাধান হবে। ’

২৭/৪/২০১৭/১০/আ/হৃ/