চট্টগ্রাম-সাতকানিয়া এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ….

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে টর্নেডো, পাহাড় ধস, বজ্রপাত এবং দেয়াল ধসের ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় চারজন এবং রাঙ্গুনীয়ায় আটজন নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে গত দুই দিনের প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে চট্টগ্রাম বান্দরবান সড়ক পানির নিচে ডুবে গেলে মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-সাতকানিয়া সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সাতকানিয়া সংলগ্ন ডলু ও শঙ্খ নদীর পানি সোমবার দিবাগত রাত থেকে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঐ উপজেলার বাজালিয়া, আমিলাইশ, কাঞ্চনা ও চরতীসহ বিভিন্ন অঞ্চল পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্র জানায়, কাঞ্চনা এলাকায় পাহাড় ধসের শিকার হয়ে তিনটি গবাদি পশু মারা গেছে। বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

জলাবদ্ধতা এবং পানি ঢুকে পড়ার কারণে চট্টগ্রামের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের অসংখ্য দোকান-আড়তে পানি ঢুকে পড়ার কারণে ব্যবসার ক্ষতি ও পণ্য নষ্ট হওয়াসহ প্রায় ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

সোমবার দিবাগত গভীর রাত ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর উপকূলীয় এলাকা হালিশহরের দুইটি ওয়ার্ডে টর্নেডো আঘাত হানলে সেখানে দেয়াল ধসে একজন নিহত হন। আরসিসি বৈদ্যুতিক খুঁটি গাছপালা উপড়ে যায়। প্রায় আড়াইশ’ বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। মঙ্গলবার ভোরে বৃষ্টিপাতের পর উপর্যুপরি বজ্রপাতের সময় নগরীর বাকলিয়া এলাকায় এক তরুণ বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।

এছাড়া গত তিনদিনের বৃষ্টিপাতে নগরীতে জলাবদ্ধতা এবং চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত আড়ত-দোকানে পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে পণ্য নষ্ট হয়ে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

পাহাড় ধস এবং নগরীর দুইটি ওয়ার্ডে টর্নেডোর আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনার কথা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অবহিত বলে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সোমবার মধ্যরাতে নগরীর ৯ নম্বর ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে টর্নেডো আঘাত হানে। এসময় সেখানে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নিহত হয় একজন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল এবং প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, চন্দনাইশের যে স্থানটিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে, সেটি উপজেলা সদর থেকে দূরে এবং দুর্গম এলাকায় বলে দুপুরের আগে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছতে পারেনি। সেখানে চারজনের মৃত্যুর খবর প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেলেও আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, রাঙ্গুনীয়ায় পাহাড় ধসে আটজন নিহত হওয়ার খবর সকালে পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা তাদের কাজ শেষ করলে বোঝা যাবে হতাহতের সংখ্যা। উভয় উপজেলাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা উদ্ধার কাজের তদারকি করছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জানানো হয়, বজ্রপাতে গুরুতরো আহত মো. দেলোয়ার (১৯) নামের এক তরুণকে স্থানীয়রা বাকলিয়ার চাক্তাই উসমানিয়া গলি থেকে চমেক হাসপাতালে সঙ্গলবার সকালে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ লেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার। আর বৃষ্টিপাত জনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বুধবার থেকে আবহাওয়া ক্রমশ স্বাভাবিক হতে থাকবে। মৌসুমী লঘুচাপটি ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চল অতিক্রম করে যাচ্ছে। এটি শিগগিরই মৌসুমী বায়ু চাপে পরিণত হবে।

১৩-০৬-১৭-০০-২০০