গর্ভবতী নারীরা ভ্রমণে সতর্ক থেকে নিরাপদ থাকুন…

নূরজাহান নীরা, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

গর্ভবতী অবস্থায় ঘরের বাহিরে বের না হওয়াই শ্রেয়। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার সম্পূর্ণ রেস্টে থাকার নির্দেশ দিয়ে থাকেন।কিন্তু অনেক সময় কিছুটা বাধ্য হয়ে হলেওে যেতে হয়। যেমন ঈদ পুজার ছুটিতে, কিংবা পরিবারের কোন দুর্ঘটনায়। আবার অনেকে পরিবার থেকে দুরে থাকেন বলে মসে করেন যে গর্ভকালীন শেষ সময় টা পরিবারের কাছে থাকা বেশি নিরাপদ।
তাই যে কোন সময় ভ্রমণের সময় গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজন কিছু বাড়তি সতর্কতার। বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে গর্ভবতী নারীরও শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনে নিন গর্ভবতী নারীর ভ্রমণের সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত সেই সম্পর্কে।

গর্ভবতী নারীর ভ্রমণের কী কী সতর্কতা

  • নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট হলে গর্ভবতী নারীর জন্য বেশ সুবিধা জনক। এই অবস্থায় উচিত ড্রাইভারকে ধীরে চালাতে বলে দেয়া। কারণ ভাঙা রাস্তায় জোড়ে গাড়ি চালালে গর্ভবতী নারীর সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে পেট এবং বাচ্চার উপর চাপ পরে ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার সুবিধা হল যে কোন সময় রোগীককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
  • পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হলে বাসের একদম পেছনের দিকের সিট কিংবা ট্রেনের একেবারে পেছনের দিকের বগিতে অনেক বেশি ঝাঁকি অনুভূত হয়। তাই গর্ভবতী নারীদের উচিত টিকেট করার সময়ে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে সামনের দিকের সিট নির্বাচন করা। সিটে যথেষ্ট আলো বাতাস এসি,পাখার ব্যবস্থা আছে কিনা লক্ষ করে নিবেন।যেন গরমে গর্ভবতী নারীর শরীর খারাপ না হয় খেয়াল রাখতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় মোটর সাইকেলে, রিক্সা কিংবা কোন ঝুকিপূর্ন যানবাহনে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া একেবারেই উচিত না। তাই গর্ভাবস্তায় টু হুইলের যানবাহনে ভ্রমন করার ঝুঁকি নিবেন না একদমই।
  • সাধারণ মানুষেরই এক স্থানে বসে থাকলে পা ঝি ঝি ধরে নিস্তেজ হয়ে আসে সুতরাং গর্ভাবস্থায় অনেকক্ষণ একস্থানে বসে থাকতে থাকতে পায়ে পানি এসে পা ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকলে রক্তচলাচল কমে যায়। তাই সম্ভব হলে যাত্রা বিরতিতে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে নিন। এতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
  • রোজা মুখে ভ্রমণ সাধারণ মানুষের জন্যও কষ্টকর। তাই রোজা রাখার সময় গর্ভবতী নারীদের ভ্রমন করা উচিৎ নয়। কারণ এই সময়ে ঘন ঘন পানি না খেলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এতে শরীর অধিক ক্লান্ত অনুভব হবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পরবে।
  • বাইরের খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত না গর্ভবতী নারীদের। বাসা থেকেই শুকনো খাবার নিয়ে আসা উচিত সঙ্গে করে।বাইরের খাবার খেলে ফুডপয়জনিং হওয়ার ঝুঁকি থাকে যা গর্ভাবস্থায় খুবই ঝুঁকি পূর্ণ।ইদানিং ভ্রমনের সময় যে খাবার রাস্তায় বিক্রি করে তাতে ছিনতাইকারীরা অজ্ঞান করার ঔষধ মিশিয়ে রাখে।
  • সবচাইতে জরুরি বিষয় হলো গর্ভাবস্থায় ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। ডাক্তার পরামর্শ না দিলে ঝুকি নিয়ে ভবিষ্যৎ সন্তানের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা একদমই উচিত হবে না।
  • ভ্রমণের সময় গর্ভবতী নারীদের উচিত জরুরী মেডিকেল কাগজপত্র সঙ্গে রাখা। গর্ভাবস্থার প্রেসক্রিপশন,মেডিকেল রিপোর্ট সঙ্গে থাকলে বিপদের সময়ে প্রয়োজনে সেগুলো কাজে লাগানো যাবে। ইমার্জেন্সিতে হাসপাতালে নিতে হলে মেডিকেল কাগজপত্র থাকলে চিকিৎসায় সুবিধা হবে।
  • ভ্রমণের সময়ে অবশ্যই জরুরি ওষুধ ও পানি নিয়ে নিতে হবে সাথে।অনেকের ভ্রমণে বমি হয় এবং গর্ভাবস্থায় বমি হওয়াটা স্বাভাবিক।আবার অনেকের মাইগ্রনের এবং রাস্তায় ধূলাবালিতে সমস্যা থাকে।গর্ভাবস্থায় সব ধরনের ঔষধ সেবন করা যায় না।তাই ডাক্তারকে নিজের সমস্যার কথা বলে প্রয়োজন মত ঔষধ সাথে রাখতে হবে।ফুটানো পানির বেশ কিছু বোতল সঙ্গে রাখা জরুরি।
  • গর্ভাবস্থায় শরীরে একটু বেশি গরম অনুভব হয়। তাই ভ্রমনের সময় পাতলা নরম কাপড় ব্যবহার করা ভাল। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় সবসময় একটু ঢিলাঢালা পোষাক পরতে হয়।তাই ভ্রমনে পছন্দ মত ঢিলাঢারা পোষাক বেছে নিন।

১৪/৫/২০১৭/২৮০/