এপ্রিল 20

কুয়া থেকে বেরিয়ে আসুন, চোখ মেলে তাকান..

ফরহাদ শিমুল, স্টাফ রিপোটার, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

ইউরোপের সবচেয়ে বড় নদীর নাম হল ডানুব। প্রায় নয়টি দেশের উপর দিয়ে দুইশত নামকরা শহর বন্দর প্রদক্ষিন করে প্রবাহিত হচ্ছে এই নদীটি। অবাক করা ব্যাপার হল এই নদীতেই বিভিন্ন দেশ তাদের নিজেদের সুবিধার্তে প্রায় ২০০শ এর কাছাকাছি বাধ নির্মান করেছেন। কেউ পানি সংরক্ষন করেছেন তো কেউ হাইড্রোলিক বাধ নির্মান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন। তারপরেও তারা সৌহার্দে বন্ধুপ্রতিম। সবাই ইউনিয়ন করেছেন, পুরো মহাদেশকে এক দেশ বানিয়ে ফেলেছেন, অভিন্ন মুদ্রা নীতি প্রবর্তন করেছেন। কেউ ভুল করেও নিজের ভাগ্য বিড়ম্বনায় নদীর পানির উপর কখনো দোষ চাপাননি। নদীবাধ নিয়ে বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠির  বিরোধিতা পুরোটাই রাজনৈতিক। এক তিস্তা চুক্তি হয়ে গেলেই উত্তরবঙ্গ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে, এটা সাহারার মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বহু আগেই গঙ্গা চুক্তি হয়েছে, এখনো গঙ্গার দুধারের মানুষজনের ভাগ্য প্রায় আগের মতই রয়েছে।অন্যের উপরে নিজের কর্মভাগ্যের দোষ চাপানো এই উপমহাদেশের মানুষের বহু পুরনো অভ্যাস।

ইসরায়েল যখন আরবদের দখলে ছিল তখন সেই অঞ্চলে খেজুর ছাড়া আর তেমন কিছুই উৎপন্ন হত না। ইসরাইলের ড্রিপ ইরিগেশনের জনক বিজ্ঞানী ‘নাতি বারাখ’ বলেছেন ‘মুসা নবী সামান্য কিছু পাথুরে ল্যান্ড ছাড়া আমাদেরকে কিছুই দিয়ে যাননি। আমরা, আজকের ইসরাইলিরা জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নয়নে প্রযুক্তির সাহায্যে মরুভুমিকে সবুজের আচ্ছাদনে বিস্তৃত করেছি।  যে মরুভুমিতে এক সময় তপ্ত বায়ুর উত্তাপে শ্বাস টানতে অসুবিধা হত সেখানে আজ ২৪০ মিলিয়ন গাছ মাথা উচু করে দাড়িয়ে ইসরাইলকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছে। যে দেশে এক বিন্দু পানি পাওয়া দুস্কর ছিল, সেখানে পানির চাহিদা মিটিয়ে আমরা সমস্ত মধ্যপ্রাচ্যে মিনারেল ওয়াটার রপ্তানী করছি। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, বর্তমান পৃথিবী শাসিত হচ্ছে প্রযুক্তি দিয়ে। যে যত বেশি প্রযুক্তি নির্ভর সে দেশ ততবেশি উন্নত। মাননীয় তথাকথিত বিশিষ্ট জনেরা, মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন চাইলে কুয়া থেকে বেরিয়ে আসুন, চোখ মেলে তাকান।পাশের প্রতিবেশী মায়ানমারের প্রবৃদ্ধি দশ’এর কাছাকাছি, আমরাও চাইলে সে পথে হাটতে পারি। দরকার শুধু ধর্মান্ধতার পট্টি উপড়ে ফেলা, জ্ঞান বিজ্ঞানের যাত্রায় অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে অন্ধ ভারত বিরোধিতার অবসান করা।

২০/৪/২০১৭/১৬০/