কলাপাড়ার শিক্ষিত যুবকরা মোটরসাইকেলেই স্বাবলম্বী….

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে শিক্ষিত যুবকরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এ উপজেলার অন্তত ২০ টি রুটে শিক্ষিত বেকার যুবকরা পেশায় এগিয়ে আসছেন। অধিকাংশই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চাকরি না পেয়ে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ধরেছেন। দিনমজুরসহ অন্য কাজে আপত্তি থাকলেও মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে অর্থ উপার্জনে আপত্তি নেই ওইসব শিক্ষিত যুবকদের। এদিকে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দ্রুত গতিতে কাজ চলায় এলাকা ধীরে ধীরে জনবহুল এলাকায় পরিনত হতে চলেছে। ফলে এসব যানবাহনের চাহিদাও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় যেসব এলাকার মানুষ মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে অথবা ভ্যানে কিংবা নৌকায় যাতায়াত করতো এখন তাদের প্রধান বাহন মোটরসাইকেল। এটি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার পথ বেছে নেয় এ অঞ্চলের বড় একটি বেকার জনগোষ্ঠী অংশ। উপজেলার বড় হাট-বাজার থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। চাকরি না পেয়ে কিংবা চাকরির পেছনে সময় ব্যয় না করে ওইসব যুবকরা বেছে নেয় এ পেশা।

কলাপাড়া পৌর শহর মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি মামুন হাওলাদার জানান, এ উপজেলায় আনুমানিক ৭/৮ হাজার মোটরসাইকেল চালক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষিত। গ্রামগঞ্জে যারা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা সকলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালভাবে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে দৈনিক অথবা চুক্তিভিত্তিক এসব যানবাহন ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয় করে বেশ স্বাবলম্বী হয়েছে। প্রতিদিন সকল খরচ বাদ দিয়ে চার-পাঁচশ টাকা আয় হয়। বিশেষ সময়ে দ্বিগুণ উপার্জন হয়। এছাড়া উপার্জনের টাকা সঞ্চয় করে কেউ কেউ একাধিক মোটরসাইকেলের মালিক হয়েছেন।

মোটরসাইকেল চালক জুয়েল হাওলাদার জানান, বিএ পাশ করে বিভিন্ন স্থানে চাকরির জন্য একাধিক আবেদন করেছেন। কিন্তু চাকরি হয়নি। বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন। এখন বেশ ভালই আছেন বলে ওই যুবক জানিয়েছেন।
শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, নিরিবিলি ও জরুরি যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ভালো পরিবহন। এতে চালক ও যাত্রী দুজনেই লাভবান হয়।

৩০/৪/২০১৭/২৭০/