ইছামতি নদীর বুকে যেন হাহাকার…

ডেস্ক রিপোর্ট ,বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

বগুড়ার গাবতলীতে ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীতে এখন পানি থাকার কথা। এক সময়ে চলতো পালতোলা নৌকা। জেলেরা গান গাইতো। জাল দিয়ে ধরত মাছ। কৃষকেরা নদী থেকে ডোঙ্গা দিয়ে পানি তুলে জমিতে সেচ দিত। সেদিনে দেখা যেত মাছরাঙ্গা’সহ নানা প্রজাতির পাখি। কালের বিবর্তনে এসব দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। নদীর বুক মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ফসলের মাঠ। আর সেই নদীর বুকে এখন ইরিবোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকেরা গম, ভুট্টা ও ডাল চাষ করছে। সেই ইরি বোরো ধান খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক পরিবার। কৃষকরা এখন দিনরাতে মাঠে ধান খেতে পানি, সার, কীটনাশক ও নিড়ানি দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়, এ মৌসুমে উপজেলাতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও অতিরিক্ত আরো ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীতে জেগে উঠা জমিতে প্রায় ১শ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছেন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে দিনমজুর সংকট হওয়ায় কৃষকরা পুরোদমে ধানের চারাগাছসহ আগাছা পরিষ্কার করছে। কাগইল কৈঢোপ গ্রামের কৃষক রাখিবুল হাসান জানান, ধান গাছে সময়মতো পানি পাওয়ায় এখন গাছ সবুজবর্ণ ধারণ করেছে। চারদিকে যেন সবুজের সমারহ। যেদিকে তাকাই দৃষ্টি যেন জুড়িয়ে যায়। গাবতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আ. জা. মু. আহসান শহীদ সরকার জানান, ধান গাছের রোগবালাই দমনে কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়াও কৃষক ধানের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষতিকারক পোকা নিধনে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং করছে। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, এবছরে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসা. আয়েশা খাতুন জানান, ইছামতি নদীতে পানি না থাকায় ফসল ফলানো হচ্ছে। তবে নদী সংস্কারসহ পুনঃখনন করা একান্ত প্রয়োজন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জাহিদ, জাহাঙ্গীর আলম, এনামুল হক, জান্নাতুন মহল তুলি, ডিএস তনশ্রী ও সৌরভ হোসেন জানান, সারের সংকট নেই। ফলে এবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে কৃষক ধান চাষ করছেন। এছাড়াও মাঠে আমরা কৃষকদের নিয়ে কাজ করছি।

 

১০/৪/২০১৭/১১০/তৌ/আ/