জুন 19

আর হতাশা নয়,ধান উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ…

মনির জামান, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

ভাত খাওয়া হয় এমন দেশগুলোতে ধানের উৎপাদন কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুপারিশ করেছেন আন্তর্জাতিক ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের (ইরি) একজন বিজ্ঞানী। ইরির জ্যেষ্ঠ ইমিরিটাস বিজ্ঞানী পিটার জেনিংস সংস্থাটির নিয়মিত প্রকাশনা ‘ইরি টুডে’- তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ সুপারিশ করেন। জেনিংস ১৯৬০-এর দশকে আইআর ৮ উৎপাদনকারী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রথম প্রজন্মের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বাংলাদেশের কৃষিখাতে বিরাট সাফল্য নিয়ে আসে। এদেশের অনেক কৃষকই দেশী জাতের পরিবর্তে আইআর৮ চাষ করে অধিক পরিমান ধান উৎপাদন করেন।

জেনিংস তাঁর নিবন্ধে ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদন বর্তমান চার টন থেকে বাড়িয়ে ছয় টন করার জন্য জোর সুপারিশ করেন। এই বিজ্ঞানী সুনির্দিষ্টভাবে ফিলিপাইন সরকারের কাছে এই সুপারিশ করেন। কিন্তু তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ এখন গড়ে হেক্টর প্রতি ৪টন ধান উৎপান করে, এটা সমানভাবে তাদের জন্যও প্রযোজ্য।’

তিনি বলেন, প্রতি হেক্টরে গড়ে ৬টন উৎপাদন করতে হলে-কৃষকদের জন্য খামার থেকে বাজার পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে ভালো রাস্তা, আধুনিক রাইস মিল, যেখানে সম্ভব বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য জলাধারে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং টিউবয়েল বা হালকা পানির পাম্পের ব্যবহারে অনেক অগ্রগতি প্রয়োজন।

পাশাপাশি, পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুৎ খরচ কমাতে তিনি ভর্তুকি দেয়ার সুপারিশ করেছেন। তবে ধানের ফলন বৃদ্ধির উদ্যোগ যথেষ্ট ব্যয়বহুল হতে পারে বলে এই বিজ্ঞানী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সরকারকে এই ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

১৯৭০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বৃষ্টির পানির দিয়ে ধান চাষের পরিবর্তে সেচের পানিতে ধান চাষের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে এই বিজ্ঞানী বলেন, পানি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ধান চাষই হতে পারে জাতীয়ভাবে হেক্টর প্রতি ৬টন ধান উৎপাদনের একমাত্র নিশ্চয়তা।

প্রয়োজনীয় তহবিল ব্যবস্থার লক্ষ্যে তিনি কৃষকদের সমবায় সমিতি গঠনের পরামর্শ দেন, যাতে প্রথমে তাদের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তীতে ধানের ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক, ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য বৃহদাকার উৎস থেকে তহবিল চাওয়া যাবে।

নির্বাচিত কিছু এলাকায় সমবায়ের ধারণা পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং আরও কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের বাকি এলাকায় তা সম্প্রসারণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমবায়গুলো কৃষক ও রাইস মিলের মালিকদের নির্বাচিত পরিষদের পরামর্শ অনুসারে খামারগুলোতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে।’

১৯-০৬-১৭-০০-৮০