আমের মান নিয়ে বিপাকে চাষিরা…

মাহামুদ তাহের, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

মান নিয়ে কড়াকড়ির কারণে এবার রাজশাহী থেকে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম রপ্তানি হচ্ছে না বললেই চলে। আর এখন পর্যন্ত কোনো আম বিদেশ যায়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও। এসব আম উৎপাদনে খরচ বেশি হলেও সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে এ দুই জেলায় চাষিদের কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে শুধু রাজশাহীর চাষিরা লোকসান গুনবেন ১০ কোটি টাকা। বাকি ৩০ কোটি টাকা ক্ষতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিদের। চাষিরা বলছেন, রপ্তানির আগে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপে ভেস্তে যেতে বসেছে তাদের স্বপ্ন। আর রপ্তানিকারকরা বলছেন, ‘অযৌক্তিক’ কড়াকড়ির কারণে কপাল পুড়তে বসেছে চাষিদের।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হিসাবে, গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এ অঞ্চলের ৫৮ হাজার ৯২৪ হেক্টর জমির আম বাগানে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৮ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছে। এ বছর বাগানের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। ফলে উৎপাদনও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মধ্যে এ বছর রাজশাহীর ১০০ জন চাষি ১০ লাখ আম ফ্রুটব্যাগিং করেছেন। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৯১ জন চাষি ফ্রুটব্যাগিং করেছেন তিন কোটি আম। এ আমের মধ্যে রয়েছে হিমসাগর, ফজলি ও আশ্বিনা। এ থেকে উৎপাদন হবে রপ্তানিযোগ্য প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিকটন আম।

এ এলাকার আম রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং। গত বছর রাজশাহী থেকে ৩০ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে ইংল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও সুইডেনে। তাই এবার বেড়েছে ফ্রুট ব্যাগিং করা চাষির সংখ্যা। প্রতিটি আম ফ্রুট ব্যাগিং করতে খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা।

আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা চাষিরা জানান, এ বছর হিমসাগর আম রপ্তানি শুরুর কথা ছিল ২৮ মে থেকে। কিন্তু নানান জটিলতায় এটি পিছিয়ে পড়ে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রাম থেকে সর্বপ্রথম ৬৫০ কেজি আম রপ্তানি হয় গত ৮ জুন। এরপর ১১ জুন রাজশাহী নগরী থেকে সাড়ে তিন হাজার কেজি আম রপ্তানি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আম রপ্তানি করা হচ্ছে খুব কম পরিমাণে।

ফলে পেকে গিয়ে ব্যাগের মধ্যেই থাকছে অধিকাংশ আম। অবশিষ্ট যা থাকছে বাছাই করার সময় তার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রপ্তানির অযোগ্য ঘোষণা করছে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং। স্থানীয় বাজারেও বাতিল করে দেয়া আমগুলোর নায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এ অবস্থায় তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

২০-০৬-১৭-০০-১৫০-