আজ আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস…

ফরহাদ শিমুল, বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

আজ ১৮ মে বৃহস্পতিবার, আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়াম ১৯৭৭ সালে মস্কোয় অনুষ্ঠিত ১২তম সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৮ মে বিশ্ব জাদুঘর দিবস পালিত হবে। এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী বছর ১৯৭৮ সালের ১৮ মে প্রথমবারের মতো বিশ্ব জাদুঘর দিবস পালিত হয়।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়াম (আইকম) বিশ্ব জাদুঘর দিবস উপলক্ষে ১৯৯২ সাল থেকে একটি করে প্রতিপাদ্য বিষয় বা স্লোগান বেছে নেয় যা বিশ্ববাসীকে জাদুঘর সম্পর্কে সচেতন করে এবং জাদুঘর সুহৃদ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়।

প্রতি বছরই একটি স্লোগানকে সামনে রেখে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়, যাতে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক এবং পণ্ডিত ব্যক্তিদের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বিশ্ব নাগরিকদের জাদুঘর ও তার আপন ঐতিহ্য সম্পর্কে ভাবতে শেখায়।

এবার দিবসটির প্রতিপ্রাদ্য ‘মিউজিয়ামস অ্যান্ড কনস্টেড হিস্টোরিস : সেয়িং দ্যা আনস্পিকেবল ইন মিউজিয়ামস।’

১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব মিউজিয়াম সংক্ষেপে আইকম বা আন্তর্জাতিক জাদুঘর সংঘ গঠিত হয়। মিউজিয়াম পেশায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের প্রতিনিধি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনেস্কোর এটি একটি সহযোগী সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্য হিসেবে বর্তমানে ১০৭ দেশের ২৮ হাজার জাদুঘর যুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসটি পালনের বেশিদিন না হলেও জাদুঘরের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। যীশু খ্রিস্টের জন্মের ৩০০ বছর আগে মিসরের আলেকজান্দ্রায় টমল প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি, তিনি যার নাম রেখেছিলেন মিউজিয়াম।
সেটিকেই বলা হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম জাদুঘর। গ্রিকদের কলাবিদ্যার দেবী মিউজেসের মন্দিরকে এক সময় মিউজিয়াম বলা হতো। গ্রিক শব্দ মউজিয়ন থেকে এসেছে মিউজিয়াম শব্দটি। জাদুঘরকে এক সময় পন্ডিতশালাও বলা হতো। কালের পরিক্রমায় জাদুঘরে সাধারণত পুরাকীর্তি সংরক্ষণ ও গবেষণার সূতিকাগারে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘর হচ্ছে রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। বরেন্দ্র জাদুঘরে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার পুরাকীর্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে জাদুঘরের সংখ্যা শতাধিক।

তবে সবকিছুর আগে বিবেচিত হবে জাতীয় জাদুঘরটি। যেখানে সংগৃহীত নিদর্শন রয়েছে প্রায় এক লাখ। ১৯১৩ সালের ২০ মার্চ তৎকালীন সচিবালয়ে (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল) জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন এ জাদুঘরের নাম ছিল ঢাকা জাদুঘর।

১৯১৪ সালের ২৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য এ জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঢাকা জাদুঘরের প্রথম কিউরেটর নলিনীকান্ত ভট্টশালী। পরে ১৯৮৩ সালের ১৭ নভেম্বর শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জন্য একটি অত্যাধুনিক বৃহদায়তন ভবনের উদ্বোধন করা হয়।

দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়াটাই জাদুঘরের উদ্দেশ্য। এই মহতী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের জাদুঘর ও জাদুঘর কর্মীদের উন্নয়ন এবং দেশের জনগণকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ জাদুঘর পরিষদ।’ ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ওই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সঙ্গে যৌথভাবে নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্ব জাদুঘর দিবস উদযাপন করে।

১৮/৫/২০১৭/০-১৪০-১৮/