এপ্রিল 01

অলস দীর্ঘসূত্রিতার বৃত্ত ভাঙার শক্তি লাভ করুন…

ডেস্ক রিপোর্ট , বাংলারিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম  আমাদের ঘনিষ্ট শত্রু হচ্ছে আলস্য। আসলে একটা জাতিরpppp - Copy উত্থান হয় তার বিশ্বাস এবং কর্মের মধ্য দিয়ে, ঠিক একইভাবে পতন শুরু হয় এবং সম্পন্ন হয় ভ্রান্তবিশ্বাস সংশয় সন্দেহ এবং আলস্য, যার আধুনিক রূপ হচ্ছে বিলাসিতা।

জীবনটা কী? সময় আর কাজের যোগফলই আসলে জীবন। সময়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে সাফল্য আসবেই। সময়কে গুরুত্ব না দিলে, পরিশ্রমে কষ্ট লাগলে জীবনটা ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর ব্যথর্তার মূল কারণ দীর্ঘসূত্রিতা যা জীবনের সকল সম্ভাবনাকে বিনাশ করে দেয়। দীর্ঘসূত্রিতা হলো আলস্যের চূড়ান্ত রূপ।

দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে আলোকপাত করার আগে আলস্য সম্পর্কে ধারণাটা পরিষ্কার করে নেয়া প্রয়োজন।

 

সময়ানুবর্তী হয়ে সুনির্দিষ্ট ও কল্যাণকর ফলপ্রসূ কাজ না করার নামই আলস্য। অর্থাৎ যার যা করণীয় কাজ তা বাদ দিয়ে অনর্থক চিন্তা বা কাজে সময় ব্যয় করাই আলস্য। সবকিছুর জন্যে অলসরা সময় পায়, শুধু সময় পায় না বা আগ্রহী হয় না প্রয়োজনীয় কাজ করার।

আপনি ডায়াবেটিক রোগী, হাঁটতে, ব্যায়াম করতে যদি আপনি আলসেমি করেন, দীর্ঘসূত্রিতা করেন আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ দ্রুত বাড়বে। আপনি ছাত্র- পড়াশোনায় আলসেমি করলে খারাপ রেজাল্ট করবেন, অফিসের কাজে আলসেমি করলে নিদেনপক্ষে প্রমোশন আটকে যাবে, চাকরিও চলে যেতে পারে, আপনি ব্যবসায়ী- আলসেমি করলে বাজারে টিকে থাকতে পারবেন না।

এখন আমরা জানবো দীর্ঘসূত্রিতা কী? আমরা যখন আলস্য থেকে বের হতে পারি না সেটাই তখন দীর্ঘসূত্রিতায় রূপ নেয়। ছোট ছোট আলস্য থেকেই তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রিতা। সকালে করবো, দুপুরে করবো, বিকেলে করবো, আর একটু পরে শুরু করবো কিংবা আগামীকাল শুরু করবো- এই করবো করবো করেও কোনো এক অদৃশ্য ফাঁকের কারণে যখন কাজ শুরু করা হয় না, তা-ই দীর্ঘসূত্রিতা। করবো বলে কাজ জমিয়ে রাখা হয়। আলস্যের পরিণতি সবসময়ই করুণ তবে দীর্ঘসূত্রিতার পরিণতি সবচেয়ে ভয়াবহ।

কিছু ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমাদের মধ্যে আলসেমি আসে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি কী? মা করে দিবে, কাজের লোক করে দিবে, ছোটভাই করে দিবে। সব কাজই অন্যে করে দিবে আমি আরাম আয়েশ করবো। আমার অনেক বড় চাকরি আছে, ব্যবসা আছে, আমার কাপড় অন্যে ধুয়ে দিবে। অথবা আমার বইপুস্তক অন্যে গুছিয়ে দিবে, ব্যাগটাও অন্যে বহন করবে। আলসেমির মূল কারণ দৃষ্টিভঙ্গি।

 

দীর্ঘসূত্রিতার নেপথ্য কারণ : জীবন সম্পর্কে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি-

গান আছে না, দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও দাও স্ফূর্তি করো। আমরা মনে করি, পৃথিবীতে মানুষের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে কত আরাম আয়েশ করা যায়। আমরা কখন আলসেমি করছি, তা বেশিরভাগ সময়ই বুঝতে পারি, বুঝেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলস্যটা আমরা উপভোগ করি। অনেকসময় নিজেদের দুঃখী ও অবহেলিত মনে করি। দুঃখের কথা ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে ঝরছে অঝোর ধারা। অথচ উঠে কাজ করা প্রয়োজন। আপনি ভাবছেন, আল্লাহ আমাকে এত দুঃখ দিয়েছেন! এই দুঃখ করতে করতে সময় পার করে দিচ্ছেন। এটাও আলস্য ও দীর্ঘসূত্রিতার একটা রূপ।

আলস্য ও দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ হলো লক্ষ্যহীনতা। কাজটি কেন করতে হবে এটা যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে আপনি পরিশ্রম করতে আগ্রহ বোধ করবেন না। লক্ষ্য না থাকলে আপনার সময় আপনি টিভি সিরিয়াল দেখে, শুয়ে-বসে, আড্ডা দিয়েই কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু আপনার যদি একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে যে, আপনি এই হতে চান, এইটা অর্জন করতে চান, তাহলে দেখবেন আপনি সবসময় কাজের একটা ফিকিরে থাকবেন।

আসলে স্রষ্টা মানুষকে সফল হওয়ার জন্যে, বিকশিত হওয়ার জন্যে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এই বিকশিত হওয়ার পথটা কী? সূরা বালাদে বলা হয়েছে, ‘আমি মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছি।’ অর্থাৎ আপনার ভিত্তিটাই হচ্ছে কষ্ট ও পরিশ্রম। যখনই আপনি শ্রমবিমুখ হচ্ছেন, সাফল্য বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

 

আলসেমির থেকে উত্তরণের উপায়

-বড় কাজকে ভেঙে ছোট ছোট কাজে ভাগ করে ফেলুন। সময়কে এই ছোট ছোট কাজের মধ্যে বণ্টন করে দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কাজটি সেরে উঠবার আগে পরের কাজটি খানিকটা শুরু করে দিতে পারেন। তাহলে পরের বার আপনি নিজেকে কিছুটা এগুনো দেখতে পাবেন এবং শুরু করার জড়তায় ভুগবেন না। রাতে ঘুমোবার আগে করুন দিনের কাজের পর্যালোচনা। সারাদিন চলুক এই অটোসাজেশন যে, আজকের কাজ আজকেই করবো এবং যখন যে কাজ করা প্রয়োজন তখন সে কাজ করবো।

আর এখানেই প্রয়োজন মেডিটেশন যা আপনার লক্ষ্যকে করবে সুনির্দিষ্ট, ঠান্ডা মাথায় বুঝতে পারবেন আপনার লক্ষ্য অর্জনে করণীয়। মেডিটেশন আপনাকে লেগে থাকতে সাহায্য করবে, কাজের আনন্দ বাড়াবে বহুগুণ। খেয়াল করবেন, আমাদের বেশির ভাগেরই এমনটা হয় যে, যেদিন অফিস থাকে বা ক্লাস বা কাজের চাপ থাকে সেদিন সময় মতো ঘুম থেকে ওঠা হয়, সময়মতো গোসল করা হয়।

-কাজটি করবো, এই মনোভাবই যথেষ্ট। আসলে আমরা বলি যে, বাঙালির তিন হাত, ডান হাত, বাম হাত আরেকটি হলো অজুহাত। একটা কাজ না করার জন্যে হাজারটা অজুহাত থাকতে পারে কিন্তু কাজটি আমি করবো এই একটি কারণই কাজটা করার জন্যে যথেষ্ট। তাই কাজটি করবো, এই মনোভাবই দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার জন্যে প্রয়োজন।

-কাজ ঠিকমতো হলে আরো কাজ বাড়িয়ে দেয়া। দেখা গেল যে, আপনি অনেক কাজ করে ফেলেছেন, আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন। তখন কাজ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে। ব্রেক নিলেই আলস্য চলে আসে, সাফল্যের রেখা ঊর্ধ্বগামী রাখতে চাইলে ক্রমাগত কাজ বাড়াতে হবে। কারণ একবার ছন্দপতন ঘটলে সেই ছন্দটা তুলতে অনেক সময় লাগে।

 

আসলে কাজপ্রিয় জাতিরাই যুগে যুগে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছে। কোয়ান্টামে আমরা বলি, স্বপ্নের জন্যে রক্ত যখন ঘাম হয়ে ঝরে সেই নোনাপানিতে অঙ্কুরিত হয় সাফল্যের বীজ। অর্থাৎ পরিশ্রম ছাড়া আপনি আপনার সাফল্য আশা করতে পারেন না। জীবন এবং সময় কিন্তু বরফ খণ্ডের মতো প্রতিনিয়তই গলে যাচ্ছে। ধরে রাখা যাচ্ছে না। হয় আপনি একে ব্যবহার করবেন, নয়তো নষ্ট হয়ে যাবে। জমা থাকবে না। তাই আপনার এই পরিশ্রমও করতে হবে সময়মতো, কাজ ফেলে রাখা যাবে না। আলস্য এবং দীর্ঘসূত্রিতাকে পরিহার করেই আপনি আপনার পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন, সাফল্য আপনার পদচুম্বন করবে।

স্রষ্টা আমাদের সকলকে দীর্ঘসূত্রিতার বৃত্ত ভাঙার শক্তি দান করুন। মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনকে সার্থক ও মহিমান্বিত করুন

১/৪/২০১৭/২০/তৌ/আ/